খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের নির্ধারিত সময়সূচি পিছিয়ে দেয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো আমচাষি ও ব্যবসায়ী। এর মধ্যে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে-গাছভর্তি পরিপক্ব আম ঝরে পড়ে নষ্ট হওয়ায় লোকসানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় চাষিদের দাবি, লবণাক্ত মাটি ও পানির কারণে সাতক্ষীরার আম দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই পরিপক্ব হয়ে যায়।
ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিকাংশ আম গাছে পেকে গেলেও বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় তা মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, গত ৩০ এপ্রিলের শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে গাছের প্রায় অর্ধেক পাকা আম ঝরে পড়ে গেছে। সময়মতো আম সংগ্রহ ও বিক্রির অনুমতি না থাকায় এসব আম বাজারে তোলা সম্ভব হয়নি, যার ফলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি গুণতে হচ্ছে।
শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, তালা ও দেবহাটা উপজেলার চাষিরা জানান, তাদের অঞ্চলে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই জাতের আম আগেভাগেই পেকে যায়। অথচ একই সময়সূচি যশোর জেলার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করায় সাতক্ষীরার চাষিরা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছেন। চাষিদের আরও অভিযোগ, অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আম বাগান পরিচর্যা করেন। আবার ব্যবসায়ীরাও অগ্রিম টাকা দিয়ে বাগান কিনে থাকেন। কিন্তু সময়মতো আম বাজারজাত করতে না পারায় ঋণের চাপ ও লোকসান একসঙ্গে বাড়ছে।
তারা দাবি জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে সাতক্ষীরার ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এনে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের সময়সূচি অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন এগিয়ে নির্ধারণ করা হোক। এতে চাষিরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন এবং জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, সময়সূচি পুনর্বিবেচনা না করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

