বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক ও রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবাকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। এই সংশোধনী হেবা আইনে কোনো ধরনের হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না।
শনিবার বিকেলে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) আয়োজিত চাকরি মেলার সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যে সংশোধনী এনেছি, সেটা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্টে। কিন্তু সংশোধনের এই অংশটুকু তারা পড়ছেন না। না পড়ে এটা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। এখন কেউ কেউ বলছেন, এটা হেবা আইন লঙ্ঘন করছে।
তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণের জন্যই এ আইন করা হয়েছে। এটি জনকল্যাণমূলক আইন। তাই আইনটি ভালোভাবে পড়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে এনজিও কর্মীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনকাম জেনারেটিং প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের লিগ্যাল এইড দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রমুখ।
এর আগে সকালে যশোর পিটিআই প্রাঙ্গনে শুরু হয় চাকরি মেলায়। ক্ষুদ্রঋণ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চাকরি প্রত্যাশীদের সরাসরি সংযোগ তৈরির লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করে এমআরএ।
ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে প্রতিপাদ্যে আয়েজিত মেলায় ৩৬টি বেসরকারি সংস্থার স্টল বসানো হয়। সকাল ৯টা থেকেই চাকরিপ্রত্যাশীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। সকাল ১০টার দিকে সেখানে প্রায় ১০ হাজার প্রার্থীর ভিড় জমে। পরে এই সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর উপস্থিতিতে একপর্যায়ে মেলা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভিড় সামলাতে না পেরে কয়েকটি স্টলে আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, আরআরএফ, আদ্-দ্বীন ও শিশু নিলয়সহ বেশি ভিড় হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কার্যালয়ে আবেদনপত্র জমা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা মেলায় ২২ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী সিভি জমা দেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ১১৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির অফার লেটার দেয়া হয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে চাকরির সুযোগ দেয়া।
এদিকে, এ আয়োজনে যে সকল প্রার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি পেয়েছেন তারা উচ্ছাস প্রকাশ করে এমন আয়োজন আরো করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, এমঅর-এর পরিচালক আবদুল মান্নান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, আরআরএফের প্রধান নির্বাহী ফিলিপ বিশ্বাস, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা আক্তার, আর্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমআর-এর ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হেলাল উদ্দীন বলেন, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এনজিও ও মাইক্রোফাইন্যান্স (এমএফআই) খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ সরাসরি কর্মরত রয়েছেন।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর মাইক্রোফাইন্স আজিজুল হক বলেন, আজকের এই মেলায় আমাদের যে প্রত্যাশা ছিলো তার দ্বিগুন চাকরিপ্রত্যাশীকারীরা আবেদন করেছেন। অভূতপূর্ব সড়ায় আমরাও হতবাক হয়েছি। এ থেকে বুঝো যায় আমাদের দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করলে বেকারত্ব কমিয়ে আনা সম্বভ।
