সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরায় এক দিনে পৃথক স্থান থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সাতক্ষীরার সদর, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলার পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, সদর উপজেলার ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামে নিজ ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় অমিত হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান জানান, অমিত অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এতে তিনি ঋণের বোঝায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মাদকাসক্ত হয়ে ওঠেন। মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে বলে জানান ওসি।
এদিন দুপুরে কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাশের একটি ডোবা থেকে মেহেদী হাসান (৩২) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মেহেদি উপজেলার কয়লা গ্রামের বাসিন্দায় এবং পেশায় মধু ব্যবসায়ী।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে মেহেদী আর বাড়ি ফেরেনি। শুক্রবার সকালে জালালাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সালেহা খাতুন বাড়ির আবর্জনা ফেলতে গিয়ে ডোবায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফেলে রেখেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।
অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলার বেউলা গ্রামের পশ্চিম বিলের খাল থেকে আব্দুর রহিম মালি (৬০) নামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সকাল ৭টার দিকে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আব্দুর রহিম মালি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের শেতপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অনেকদিন আগে থেকে আব্দুর রহিম মালি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। শুক্রবার ভোর রাতে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বাইরে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। সকালে বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামের পশ্চিম বিলের খালে আব্দুর রহিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। তবে তার চোখে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা যায়।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনার রশিদ মৃধা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি তিনি।
তিনি আরো জানান, খালের পানিতে পড়ে থাকার কারণে কাঁকড়া বা অন্য জল প্রাণী আঘাতে তার চোখেও মুখে সামান্য খাতের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

