বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১২২ কেটি ৮৬ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৯২ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পৌরসভার সভাকক্ষে যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে নগর সমন্বয় কমিটির বিশেষ (প্রাক-বাজেট) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাজেট প্রস্তুত কমিটির কনভেনার ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ আলী প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।
সভায় জানানো হয়, রাজস্ব খাতে সম্ভাব্য আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ কোটি ২৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। বিপরীতে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ১ লাখ টাকা। ফলে এ খাতে প্রায় ৭২ লাখ টাকার ঘাটতি সৃষ্ঠি হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন খাতে আয় ও ব্যয় সমানভাবে ৭৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। উন্নয়ন খাতের সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে সরকারি অনুদান থেকে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, রাজস্ব উদ্বৃত্ত থেকে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প থেকে ৫০ কোটি টাকা এবং লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্প থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে নগর সমন্বয় কমিটির সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ করে রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ঘাটতি কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, শহরের যানজট নিরসনে দড়াটানা ব্রিজ থেকে নীলগঞ্জ শ্মশান পর্যন্ত ওয়াকওয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার নিজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং শুধু মাত্র ইজিবাইক চালকদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি প্রায় ৯২ লাখ টাকা দেখানো হলেও পূর্ববর্তী অর্থবছরের জের অর্থ সমন্বয়ের পর সমাপনী জের হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ১২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাজেট চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় নগর সমন্বয় অর্থ কমিটির কনভেনার মোশাররফ হোসেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং নগর সমন্বয় কমিটির প্রায় ৩০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

