# চারটি ফ্ল্যাট, দুটি বাড়ি, ৬০টি দোকানসহ ৭৯ বিঘা জমি জব্দ
# রণজিতের ২৫টি ও স্ত্রীর ২১টি, রাজীবের ৫৩টি ও স্ত্রীর ২০টি,
সজীবের ১২টি ও তার স্ত্রীর ৬টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ
বাংলার ভোর প্রতিবেদক
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় যশোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রনজিৎ কুমার রায়, তার স্ত্রী নিয়তি রানি রায়, দুই ছেলে রাজীব কুমার রায় এবং সজিব কুমার রায়ের স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ক্রোকের তালিকায় চারটি ফ্ল্যাট, দুটি বাড়ি, ৬০টি দোকানসহ ৭৯ দশমিক ৬২ বিঘা জমি রয়েছে। একই সাথে ১৩৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের তথ্য কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
ক্রোক আদেশ হওয়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে রনজিতের নামে ২৬ দলিল মূলে যশোরে ১০২২ শতক জমি ও পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি রয়েছে। এসব সম্পদের দলিল মূল্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ৫ হাজার ২২০ টাকা। তার স্ত্রী নিয়তি রানির নামে তিনটি বাড়ি, ২টি ফ্ল্যাট ও ৩৮ শতক জমি যেসবের দলিল মূল্য ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া তাদের দুই ছেলে রাজীব ও সজিবের যৌথ নামে থাকা ২৩ দলিল মূলে ৩ কোটি ৮০ লাখ ১২ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
এসব সম্পদ ছাড়াও রাজীব কুমারের যশোর নিউমার্কেটে একটি ফ্ল্যাট ও সজীব কুমারের সঙ্গে যৌথনাম থেকে অর্জিত সম্পদ যার মূল্য ২ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। সজিব কুমারের যশোর নিউমার্কেটে একটি ফ্ল্যাট, ৬০টি নির্মাণাধীন দোকান, ১৬৫ শতক জমি ও রাজীব কুমারের সঙ্গে যৌথনাম থেকে অর্জিত সম্পদ যেসবের মূল্য ৩ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ১৫০ টাকা ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিকে, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রণজিত কুমারের ২৫টি হিসাবে আছে ৭১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৮ টাকা, স্ত্রীর ২১ টি হিসাবে ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬ টাকা, তাদের সন্তান রাজীব কুমারের ৪৪টি হিসাবের ৬৮ লাখ ৭ হাজার ৬০২ টাকা, রাজীবের নিয়তি প্রোপাইটরের ৬ হিসাবে আছে ৯০ হাজার ৩০৫ টাকা, নিয়তি ট্রেডে আছে ১৪ হাজার ৩০১ টাকা, রাজীবের স্ত্রী রিশিতা সাহার ২০টি হিসাবে আছে ৪০ লাখ ৭ হাজার ৯৮৪ টাকা, রণজিতের ছেলে সজীব কুমারের ১২ হিসাবে আছে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৬৪ টাকা, সজীবের স্ত্রী অনিন্দিতা মালাকার পিউর অ্যাকাউন্টে আছে ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ২৫২ টাকা। রনজিতের ২৫টি ব্যাংক হিসাব, নিয়তি রায়ের ২১টি, রাজীবের ৫৩টি, রাজীবের স্ত্রী রিশিতা সাহার ২০টি, সজীব কুমারের ১২টি, তার স্ত্রী অনিন্দিতা মালাকারের ৬টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দেয়া হয়েছে।
দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. সাজিদ-উর-রোমান অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, রনজিত কুমার রায়, নিয়তি রায়, তাদের সন্তান রাজীব কুমার রায় ও সজিব কুমার রায়ের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সম্পৃক্ত ধারায় অপরাধ করাসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার প্রয়োজন। তাদের স্থাবর সম্পদসমূহ ক্রোক করা না হলে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।