বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বিয়ের পর প্রায় দুই দশক ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে নির্যাতন, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নার্গিস আক্তার খালেদা। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় প্রেসক্লাব যশোর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে নার্গিস আক্তার বলেন, ২০০৭ সালে যশোরের রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের বাসিন্দা বদিয়ার রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর মধ্যে স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন, ঋণের টাকা নিয়ে আত্মগোপন এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের মার্চে সন্তান জন্মের কয়েকদিন আগে তার শাশুড়ি ও ভাসুর ঢাকার বাসা থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যান। পরে এ ঘটনায় তিনি খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে স্বামী কৌশলে আরও প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। এছাড়া ২০২৪ সালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
নার্গিস আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী বদিয়ার রহমানের সাথে, শাশুড়ি সুফিয়া বেগম, ভাসুর মশিয়ার গাজী, ননদ সালমা এবং সালমার স্বামী মোস্তফাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তিনি কথা বললে মারধর করেন এবং সন্তানকে কেড়ে নেয়ার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় তিনি যশোর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১ (গ) ধারায় মামলা করেছেন। তবে মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে ও তার সন্তানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন।
প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

