বুলবুল শহীদ খান হিমেল
দীর্ঘ ১৭ বছর পর যশোর জেলা বিএনপির প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা তরিকুল ইসলামের পরিবারে মন্ত্রীত্ব ফিরে আসায় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এটিকে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বাবা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামও চারবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাবার পথ ধরেই এবার মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন অমিত। তার পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় যশোর জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির নেপথ্যের কারিগর হিসেবে ভূমিকা রাখেন। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আস্থা অর্জন করেন। যার ফলশ্রুতিতে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিদ্যুৎ, জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পর বিএনপির সংসদ নেতা তারেক রহমান তাকে প্রতিমন্ত্রী পদে নিযুক্ত করেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতিমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হওয়ার খবর আসার সাথে সাথে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দীকি বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন পর তরিকুল পরিবারে হাতে মন্ত্রীত্ব ফিরে আশায় আমরা আনন্দিত। তরিকুল ইসলামের সময় যশোরে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিলো, সেটি নতুন করে ফিরে পাবে বলে আমরা আশা করছি। এতে রাজনৈতিক সহনশীলতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি আরো শক্তিশালী হবে।
জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক হাজী আনিছুর রহমান মুকুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যশোরের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির ছিলো। নতুন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গতি ফিরে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।
সনাক যশোরের সভাপতি অধ্যাপক পাভেল চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে আসলে কোন আইন কানুন ছিল না। যে কারণে এ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কোন উন্নয়ন করতে পারেননি। এত বছর পর যশোরের উন্নয়নের কারিগর খ্যাত তরিকুল ইসলাম পরিবারে আবারো মন্ত্রিত্ব ফিরে আসায় পুরো যশোরবাসীর সাথে আমিও আনন্দিত। আশা করি যশোরের বিগত দিনের যে কালো অধ্যায় তা কেটে যাবে এবং অমিত তার প্রতিশ্রুত উন্নয়ন যশোরকে উপহার দেবেন।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু বলেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের হাত ধরে যশোরের শিক্ষাখাতে পরিবর্তন আসবে। তার বাবা প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের হাত ধরেই এ অঞ্চলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরটি যশোরে পৌঁছালে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে তারা আনন্দ সমাবেশ ও মিছিল বের করেন। মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের চিত্রা মোড়, দড়াটানা, সিভিল কোর্ট মোড় ও এম এম আলী মোড় ঘুরে দলীয় কার্যালয় গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার তার উপর ব্যাপক নিপীড়ন চালান এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট পান।
অমিত ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। অনিন্দ্য ইসলাম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞানে ১৯৯৬ সালে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৯৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি টিভি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অনিন্দ্য ইসলাম ল্যাবস্কান মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, লোকসমাজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি যশোর মেডিসিন ব্যাংক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যশোর ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, যশোর প্রেস ক্লাব, যশোর চেম্বার অব কমার্স, যশোর ক্লাব, ঝিনাইদহ এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন, গ্রাজুয়েট বায়োকেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বায়োকেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য। এছাড়া তিনি বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

