বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে যশোরের আমডাঙ্গা খালে জমে থাকা কচুরিপানা, শেওলা ও পলি অপসারণে স্বেচ্ছাশ্রমে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার সকাল থেকে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে প্রায় শতাধিক মানুষ খালের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সংগ্রাম কমিটির নেতাদের দাবি, আমডাঙ্গা খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। খালটি দ্রুত সংস্কার ও পলি অপসারণ করা গেলে এলাকার পানি নিষ্কাশন অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা শিব প্রসাদ বলেন, “আমডাঙ্গা সুইচগেটের নিচে প্রায় ছয় ফুট পলি জমে তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।”
সুইচগেটের অপারেটর রাজু জানান, খালের পাড়ের কংক্রিট ব্লক ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে থাকায় গেট খুললেও পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। দ্রুত এসব ব্লক অপসারণ করা গেলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে পাড় ধসে পড়েছে। এছাড়া খালের মধ্যে প্রচুর কচুরিপানা, শেওলা ও গাছপালা জমে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল খননের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাড় ভেঙে অনেক বাড়িঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, বর্তমানে নদীর পানির স্তর জলাবদ্ধ এলাকার তুলনায় প্রায় চার ফুট নিচে রয়েছে। ফলে খালটি দ্রুত সংস্কার ও যান্ত্রিকভাবে পলি অপসারণ করা হলে সহজেই পানি নদীতে নেমে যাবে এবং জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহি বলেন, “নদী খননের কাজ হয়েছে, তবে দ্রুত টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু না হলে ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না।”
কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক অনিল বিশ্বাস বলেন, “আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো কাজ শুরু হয়নি। সরকারের উচিত দ্রুত খাল সংস্কার ও পলি অপসারণের মাধ্যমে এ জনপদের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা চৈতন্য কুমার পাল, সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক, সাধন রায়, কানু বিশ্বাস, নীলকমল বিশ্বাসসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

