বাংলার ভোর প্রতিবেদক
কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যুবদল কোনো দর্শকের ভূমিকায় ছিল না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের প্রতিটি ইউনিট নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে রাজপথে থেকে আন্দোলনকে সফল করতে ভূমিকা রেখেছে। আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতা তাদের রাজপথ থেকে সরিয়ে রাখতে পারেনি।
শনিবার বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে জেলা যুবদলের আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, “জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যুবদল কোনো দর্শকের ভূমিকায় ছিল না। সংগঠনের প্রতিটি ইউনিট নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় যুবদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে সফল করতে ভূমিকা রেখেছে। আন্দোলনে যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতা তাদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশে একটি নতুন অপসংস্কৃতি গড়ে তোলার অপচেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু শিষ্ঠাচার ও সৌজন্যবোধের সীমা লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকি সেনাপ্রধানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং তার ধর্মীয় পোশাক ও দাড়ি নিয়েও কটূক্তি করা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
মুন্না আরও বলেন, “বেয়াদবি, সন্ত্রাস ও উসকানিমূলক রাজনীতি কখনো দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। যারা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, জনগণ অতীতেও তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও যুক্তি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের শক্তির মাধ্যমেই তাদের জবাব দেয়া হবে। যুবদল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, বিএনপি কখনো ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটেনি এবং ভবিষ্যতেও হাঁটবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আপস না করে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখেও গণতন্ত্রের আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। সেই ত্যাগই আমাদের অনুপ্রেরণা।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে নার্গিস বেগম বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ, ব্যাংক খাতের সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা সংকট মোকাবিলায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থেকে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আনছারুল হক রানার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন ও আসাদুজ্জামান আসাদ। এছাড়া যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ জেলা বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

