বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যানজট, অবৈধ দখল, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে যশোর শহরে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। পৌরসভার অনুমোদন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া শহরে কোনো ভ্যান বা রিকশা চলাচল করতে দেওয়া হবে না। আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। একই সঙ্গে যানজট নিরসনে আগামী সাত দিনের মধ্যে মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগ। তাদের সঙ্গে থাকবেন স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় গত জুলাই মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের সময়ের তুলনায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে। তবে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ও সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘যশোরকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।’
জেলা প্রশাসক জানান, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গত তিন মাস ধরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু গত এক মাসেই ২০৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে, সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত, সাজা দেওয়া হয়েছে।
যানজট প্রসঙ্গে সভায় জানানো হয়, শহরের যানজটের অন্যতম কারণ অবৈধ দখল ও অনুমোদনহীন যানবাহন। এ সমস্যা সমাধানে পৌরসভা, ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে। অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরাও যুক্ত থাকবেন।
শহরে ভ্যান ও রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার অনুমোদন এবং চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে কোনো ভ্যান বা রিকশা শহরে চলতে দেওয়া হবে না। আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, যশোরকে নিরাপদ রাখতে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি নাগরিকদের আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সৈয়দ রফিকুল হাসান বলেন, যানজট নিরসনের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পৌর পার্কের নিরাপত্তা বাড়াতেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সভায় ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত ৬৪টি হাসপাতালের পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী ইটিপি ও ডব্লিউটিপি রয়েছে কি না, তা যাচাই করে লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানিমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
মাদক চোরাচালান ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবুতাহের মোহাম্মদ পারভেজ, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হোসেন সাফায়াত, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান এবং ৪৯ ও ২১ বিজিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। শহরকে সুন্দর ও পরিকল্পিত করতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি।’

