বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগে ইমরান হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
যশোর সদরের বাসিন্দা ও সরকারি এম এম কলেজের বিপণন (মার্কেটিং) বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল।
মামলার অভিযুক্ত ইমরান হোসেন যশোর সদর উপজেলার দলননগর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ইমরান। এ সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন তিনি। এছাড়া ভিডিও কলে কথা বলার সময় তরুণীর অজান্তে তার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে রাখেন।
পরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। এরপর ইমরান হোসেন সংরক্ষণ করা ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীর কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগী দাবিকৃত ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তবে টাকা পাওয়ার পরও ইমরান হোসেন থেমে থাকেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। তিনি বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ওই তরুণীর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। কিন্তু এরপরও ইমরান পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। তিনি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে মামলা করেন।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

