বাংলার ভোর ডেস্ক :
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবল দলকে ঢাকায় এনে খেলানো হলে এ দেশের ভক্ত-সমর্থকদের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে, তবে এতে বাংলাদেশ ফুটবলের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে তিনি পরিস্কার করে দিয়েছেন, সরকারের অর্থ ব্যয়ে একটি ম্যাচকে উপলক্ষ করে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করার মতো মানসিকতা বা সুযোগ এই মুহূর্তে সরকারের নেই।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। তার আগে বিশ্ব ফুটবলের জায়ান্ট দলটিকে বাংলাদেশে আনার আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করেছে। সিবিএফ প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণে মাঠগুলোর মান সন্তোষজনক হলেও নিরাপত্তা, ড্রেসিংরুম ও আনুষঙ্গিক কিছু ব্যবস্থার উন্নয়নের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সংগে তাদের আলোচনা ও পর্যবেক্ষণের পর আগামী অক্টোবরের শুরুতে ঢাকায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ বা অনুশীলন সেশনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
তবে এ বিষয়টি নিয়ে বাফুফে সভাপতির সংগে কথা হলেও পুরো বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এই সফরের আর্থিক ব্যয়ভার বা অন্যান্য খুঁটিনাটি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
বক্সিং ফেডারেশনের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত আপনি যে বিষয়টি বলছেন সেটি একদমই প্রাথমিক পর্যায়। এটি নিয়ে এখনো বিশদ আলোচনা হয়নি এবং আদৌ ব্রাজিল দল বাংলাদেশে আসবে কিনা তা নিয়েও স্পষ্ট কোনো বার্তা নেই। কাজেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যে ভেন্যুগুলো দেখিয়েছে, বা তাদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে সেটার সামারি আমরা পরবর্তীতে জানতে পারব।’
ব্রাজিল দলের ঢাকা আগমন ও ম্যাচের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ব্রাজিল দল যদি বাংলাদেশে আসে, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খেলে-এটি বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য অনেক বড় অর্জন। কিন্তু আমার বাংলাদেশ ফুটবল কতটুকু এগুবে এটা নিয়ে আমি খুব বেশি আশাবাদী না। এই কারণে ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ হলে হয়তবা বাংলাদেশের দর্শকের স্বপ্নপূরণ হবে-যে বাংলাদেশ ব্রাজিলের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগে খেলেছে। বিশ্বকাপে দেখেছেন ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উন্মাদনা, সেদিক থেকে দর্শকরা হয়ত আনন্দ পাবে। কিন্তু ব্রাজিল খেলে গেলে যে বাংলাদেশের ফুটবলের পরিবর্তন হবে তা আমি মনে করি না।’
বিশাল অঙ্কের খরচের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী পরিস্কার করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে এই বিপুল অর্থ বহন করা সম্ভব নয়, ‘আমি যদি এক কথায় আপনার প্রশ্নের উত্তর দিই, এই মুহূর্তে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের যে অর্থ ব্যয় করে যেহেতু আমরা নিজেরাই আপনারা জানেন যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে আমরা একটি ম্যাচকে উপলক্ষ করে সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের ব্যয় করার মতো মানসিকতা বা এই ধরনের কোনো উপলক্ষ এই মুহূর্তে আমাদের ভিতরে নেই।’
তবে বাফুফে যদি নিজ উদ্যোগে স্পন্সর জোগাড় করতে পারে, সে ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাফুফে যেহেতু কথা বলেছে, বাফুফের সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে-তারা যদি বিভিন্ন সাইট থেকে স্পন্সরশিপ এনে যদি সেটাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে, তাহলে হয়তোবা আমরা আমাদের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব। আমি বলেছি এটা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সংগে কথা হয়েছে, আমরা ওই প্রাথমিক আলোচনাটুকুই করেছি। কতটুকু ব্যয়ভার বহন করতে হবে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়নি।’

