বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের চৌগাছার আনসার সদস্য সুমন হোসেনের বিরুদ্ধে ফের মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন দাবি করেছেন, তাকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আনসার ব্যাটালিয়নের সিপাহী পদে কর্মরত সুমন হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি খাগড়াছড়িতে কর্মরত থাকাকালে কক্সবাজার থেকে মাদক এনে যশোরে বিক্রির অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটে কর্মরত রয়েছেন।
নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর পাশে বসে সুমন তাকে ইয়াবা সেবনে সহযোগিতা করছেন—এমন দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে তার পাশে নীল রঙের একটি প্যাকেট এবং পেছনে আনসার ব্যাটালিয়নের একটি ব্যাগ দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও ধারণের সময়-স্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, চৌগাছায় সুমনের একটি নিজস্ব আস্তানা রয়েছে। সেখান থেকেই তিনি মাদক সেবন ও কারবার পরিচালনা করেন বলে তাদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো নথি বা আইনগত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রভাব ব্যবহার করে সুমন এসব কর্মকাণ্ড চালাতেন। তার মা নার্গিস বেগম ধুলিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকাকালে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও ছিল বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও সম্প্রতি সুমন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় সমালোচনা চলছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সুমন হোসেন। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় তাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার একসময়কার ঘনিষ্ঠজন এসব ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সুমনের দাবি, তার একটি সোনার চেইন বন্ধক রাখা হয়েছিল। ওই চেইন ফেরত না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তার নয়—এমন দাবি তিনি করেননি। বরং তার ভাষ্য, কাছের লোকজনই তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এদিকে, ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হলেও এর সত্যতা, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

