হিমেল খান :
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় যশোরে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের সংকট তীব্র হচ্ছে। সরকারি হিসাবেই জেলাই ইউরিয়া সারের ঘাটতি ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, টিএসপি ৪৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং এমপিও ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রয়োজনের সময় চাহিদামতো সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি খুচরা ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে বাজারে সংকট আরও প্রকট হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বিশেষ করে ডিএপি সারের পর্যপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ফলে সার সংকটের কারণে চলতি মৌসুমের উৎপাদনে প্রভাব পড়ার কোন আশঙ্কা নেই।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপিও সার সংগ্রহে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় জমিতে নির্ধারিত সময়ে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না তারা।
অভিযোগ অধিকাংশ জায়গায় চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এতে একদিকে বাড়ছে কৃষকের ভোগান্তি, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে। এ সময়ে সারের চাহিদা থাকে ব্যাপক। কিন্তু সরবরাহের তুলনায় সার অপ্রতুল থাকায় চাহিদামতো মিলছে না। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব সরাসরি উৎপাদনের ওপর পড়বে। দ্রুত বাজারে প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষক মনির হোসেন বলেন, আমন মৌসুমের শুরুতেই সারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনের সময় চাহিদামতো সার না পেলে জমিতে সময়মতো প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না। এতে ফলন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
হামিদ আলী নামে আর এক কৃষক জানান, এ মৌসুমে তিনি ২ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। কিন্তু বাড়তি দামে তাকে সার কিনতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। তাদের দাবি দ্রুত বাজারে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।
শহরের পুলেরহাটের খুচরা ডিলার বাটুল হোসেন বলেন, সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি খুচরা ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে বাজারে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
সার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে খুচরা ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। লাইসেন্স বাতিলের কারণে অনেক বিক্রেতা সার উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে জটিলতা।
যশোর জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহজালাল হোসেন বলেন, বর্তমান সারের সংকটের পেছনে সরবরাহ ঘাটতি বড় কারণ। এর সঙ্গে খুচরা ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সংকট সমাধানে সরকারকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান সরকারকে ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে কাজ করে দ্রুত সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
তবে ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগ মানতে নারাজ কৃষি বিভাগ। কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিশেষ করে ডিএপি সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুলতানা আফরোজ বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ডিএপি সারেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তাই মৌসুমে সার সংকটের কারণে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ বলে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপির ঘাটতির পরিমাণই বলছে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে মাঠপর্যায়ে সার নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসন না হলে কৃষকদের উৎপাদন পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষকদের দাবি, শুধু মজুত থাকলেই হবে না, প্রয়োজনের সময়ে নির্ধারিত দামে কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে চলতি মৌসুমে আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
