বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
প্রেসক্লাব যশোরের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি আহ্বায়ক কমিটির আহবায়ক, সদস্য সচিবসহ এক সদস্য পদত্যাগ করেছেন। প্রেসক্লাব যশোরের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলামের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন তারা। রোববার দুপুর থেকে তারা পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারাকে তারা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সদস্য সচিব মবিনুল ইসলাম মবিন রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আহ্বায়ক একরাম-উদ-দ্দৌলার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগ পত্রে মবিনুল ইসলাম মবিন উল্লেখ করেন, প্রেসক্লাব যশোরের নির্বাহী কমিটির কিছু অনিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গত জুলাই থেকে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর আন্দোলন শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ক্লাবের সংকট নিরসনে গত ৬ আগস্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
পেশাগত ব্যস্ততার কারণে দায়িত্ব গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও যৌথ কমিটির সভায় তাকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে ক্লাব সদস্যদের বৃহত্তর স্বার্থ এবং সবার সমর্থনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পদত্যাগ পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকালে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র সংশোধন, সদস্যপদ প্রদান এবং অডিট কার্যক্রম শুরুর মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রেসক্লাবের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি নিজ পত্রিকার কাজে প্রয়োজনীয় সময় দিতে না পারায় আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার পেশাগত ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন। এরপর সদস্য ওহাবুজ্জামান ঝন্টু পদত্যাগ করেন।
সর্বশেষ পদত্যাগ করেন আহবায়ক একরাম-উদ-দ্দৌল্লা। পদত্যাগ পত্রে একরাম-উদ-দ্দৌলা উল্লেখ করেন, প্রেসক্লাব যশোরের নির্বাচনসহ বিভিন্ন গঠনতান্ত্রিক বিষয়ে প্রশ্ন ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে গত ৬ আগস্ট বিশেষ সাধারণ সভায় ১৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তাকে আহ্বায়ক এবং মবিনুল ইসলাম মবিনকে সদস্যসচিব করা হয়।
বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও প্রেসক্লাবের সংকট নিরসনে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন একরাম-উদ-দ্দৌলা। দায়িত্ব পালনের সময় ঐক্য, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সব কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। এতে তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন ও প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। এ অবস্থায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই সমীচীন বলে জানান তিনি।
এদিকে, গুঞ্জন উঠেছে ওই অন্যান্য সদস্যদেরও কয়েকজন যেকোন সময় পদত্যাগ করতে পারেন।
