শ্যামনগর সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদচণ্ডীপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় পাঁচ শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বসতবাড়ির উঠান, প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ কবরস্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও সড়কের অস্তিত্বও বোঝার উপায় নেই।
স্থানীয়রা জানান, আবাদচণ্ডীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৭ নম্বর উত্তর আবাদচণ্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে সাংবাদিক মিজানের বাড়ি হয়ে মির্জাপাড়া পর্যন্ত সড়কটি পানিতে ডুবে থাকায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানির কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও শঙ্কা করছেন। ঘরের উঠানে পানি জমে থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের গড়ে ওঠা এবং পানি নিস্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানিতে কবরস্থান তলিয়ে যাওয়ায় স্বজনদের কবর জিয়ারত এবং নতুন মরদেহ দাফন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর সরদার, নজরুল ইসলাম বাবু, আজিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আবুল হোসেন তরফদার ও হাসান সরদারসহ স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিস্কাশনের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে মৎস্যঘের গড়ে তোলা এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, এলাকায় তার একটি মৎস্য প্রকল্প রয়েছে। ওই প্রকল্পের কারণে জলাবদ্ধতা হয়ে থাকলে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পানি নিস্কাশনের জন্য তার জায়গা দিয়ে প্রায় ২০০ ফুট পাইপ বসানোর প্রয়োজন হবে এবং পাইপ কেনা হয়েছে। দ্রুত তা স্থাপন করা হবে।
আবাদচন্ডিপুর গ্রামের গৃহবধূ নাছিমা বেগম বলেন, ঘরের চারপাশে পানি জমে থাকায় বাড়িতে রান্না করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। চুলার জায়গাটিও পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে দূরে অন্যের বাড়িতে গিয়ে রান্না করে সেই খাবার টেনে বাড়িতে এনে খেতে হচ্ছে। সিয়াম হোসেন, মাহিম, সুরাইয়া ও মাহিসহ স্কুল পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বাড়ির উঠানে পানি, ঘরের মধ্যে পানি উঠবো উঠবো অবস্থা। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাজুড়ে হাঁটুসমান পানি থাকায় প্রতিদিনই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানির মধ্যে জামাকাপড় ও বই-খাতা ভিজিয়ে স্কুলে যেতে হয়। পানি বেশি থাকলে অনেক সময় অভিভাবকেরা তাদের স্কুলে পাঠাতেও চান না।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে পানি সরিয়ে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।
