মাগুরা সংবাদদাতা
মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জুইতারা এলাকায় মৃত সমীর মোল্লার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার।
জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট রাজমিস্ত্রিসমীর মোল্লা মৃত্যুকালে স্ত্রী মেরি খাতুন ও সাত সন্তান রেখে যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবারটি। ১৬ বছর বয়সী বড় সন্তান এবং মাত্র ৫ মাস বয়সী ছোট শিশুকে নিয়ে বিধবা মেরির পরিবারে দেখা দেয় গভীর অনিশ্চয়তা।
গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পরিবারটির অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার নিজে জুইতারা এলাকায় গিয়ে মেরি খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
গ্রাম পুলিশ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সমীর মোল্লার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সাত সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি খুবই অসহায় অবস্থায় পড়ে। সংসার চালানোর মতো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল কোনো ব্যক্তি পরিবারটিতে নেই—বিষয়টি জানতে পেরে আমি ইউএনও মহোদয়কে জানাই। পরিবারের অবস্থা শোনার পর তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।”
পরিবারটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ইউএনও মেহেরুন্নাহার সরকারি অর্থায়নে তাদের জন্য টিনের ঘর ও একটি টয়লেট নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, অসহায় পরিবারটির এমন দুরবস্থার কথা জানতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসীও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
স্বামীকে হারিয়ে সাত সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি মেরি খাতুন উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন। স্থানীয়রা পরিবারটির সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
