লোহাগড়া সংবাদদাতা
নড়াইলের লোহাগড়া মধুমতি নদীতে ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এ কারণে নদী পাড়ের হাজারো মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
১৩সেপ্টেম্বর বিকেলে সরজমিনে দেখা যায়, লোহাগড়া উপজেলার মন্ডলবাগ, শালনগন, জয়পুর, লোহাগড়া, ইতনা, কোটাকেলসহ কয়েকটি ইউনিয়নে মধুমতি নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাটের মোকাম খ্যাত শালনগর ইউনিয়নের শিয়ারবর হাট মধুমতি নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে শত শত পাট ব্যবসায়ীরা।
মন্ডলবাগ বাজারের পাট ব্যবসায়ী উজ্জল কুন্ডু জানান, যুগ যুগ ধরে এ হাটে নদী পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফরিয়ারা নৌকা, ট্রলারযোগে এবং সড়ক পথে বিভিন্ন মোকাম ও মিলে পাট সরবারাহ করে থাকেন। আসন্ন ভাঙ্গন রোধ না করলে চরম ক্ষতির মুখে পড়বে এই পাটের মোকামগুলি।
ছাগলছিড়া গ্রামের নদী ভাঙ্গন তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা মহিলা ইউপি সদস্য নাজমা বেগম বলেন, কয়েক বছর দেখতে না দেখতেই ছাগলছিড়া গ্রামটি মধুমতি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। আমি তিনবার আমার বসতবাড়ি সরিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। আমার মত গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার এই পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছে।
আমডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মন্ডল মোল্যা জানান, আমার জীবদ্দশায় মধুমতি নদীর ভাঙ্গনের খেলায় হারিয়েছি আমার স্বজনদের বসতভিটা, মসজিদ, বাপ দাদার কবরস্থান, খেলার মাঠ, প্রাইমারি ও হাইস্কুল। অতীতের এ সমস্ত কথা মনে পড়লে আমি খেই হারিয়ে ফেলি।
কোটাকোল ইউপির মঙ্গলপুর গ্রামের মোল্যা বদিয়ার রহমান জানান, মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে এলাকাবাসী হারিয়েছে শত শত একর ফসলি জমি, মাছের বাঁওড়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিশাল জনপদ।
বড়দিয়ার বাজারের জিহাদুল ইসলাম জানান, মিনি বন্দর খ্যাত বড়দিয়া মোকামটির চার ভাগের তিন ভাগ মধুমতি গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ বছর ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা না করলে শিঘ্রই বিলীন হবে প্রাচীনতম বড়দিয়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জামে মসজিদসহ অসংখ্য গুদামঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে বসতবাড়ি, বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা বা প্রতিরক্ষামূলক কাজের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে মধুমতি নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জন্য একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
