মণিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক একরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার কথায় রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। লোকলজ্জা ও হুমকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিনেও সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সোমবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যান মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘটের খবর পেয়ে তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
