বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প (ইরেসপো)’র দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় অভিভাবক ও কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়া এবং কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ উপকরণ ও প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, “বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। একটি কিশোরীর বিয়ে দিয়ে দিলে শুধু তার শৈশবই নষ্ট হয় না, তার শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের ও পরিবারের জন্য আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কিশোরীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরডিবি যশোরের উপপরিচালক বি এম কামরুজ্জামান। এসময় আরও বক্তব্যে রাখেন, যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঞ্জুরুল হক খোকন, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুর রহমান মধু, প্রধান শিক্ষক একেএম শরিফুল আনাম।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), যশোর সদর কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে কিশোরী ও অভিভাবকদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক, সঞ্চয়ের গুরুত্ব এবং কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
পরে প্রশিক্ষণ উপকরণ ও প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়।
