বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ, সারের কালোবাজারি রোধ, কৃষি খাতের দুর্নীতি তদন্ত এবং ডিজেলসহ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতি যশোর জেলা শাখা।
সোমবার সংগঠনের কার্যালয় নীল রতন ধর রোড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সারের ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ডিলাররা কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দিচ্ছেন না। ফলে সাধারণ কৃষকরা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে খোলাবাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রদর্শনী খামার প্রদর্শনের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সেচের জন্য জরুরি ডিজেল ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
কৃষি খাত রক্ষায় সংগঠনের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। কালোবাজারি রোধ করে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায্য মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। প্রদর্শনী খামারের নামে দুর্নীতির তদন্তপূর্বক দায়ী কর্মকর্তাদের শাস্তি দেয়া, প্রকৃত কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান করা এবং ফিল্ড সুপারভাইজারদের দায়িত্বে অবহেলার বিচার করা।
কৃষি উৎপাদনে সেচের জন্য ব্যবহৃত ডিজেল ও বিদ্যুতে প্রত্যক্ষ ভর্তুকি দেয়া এবং জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে বাতিল করা। ধানের লাভজনক মূল্য নির্ধারণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং কৃষক যতটুকু ধান বিক্রি করতে চান তা সরকারের কেনা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম-উর-রহমান, যশোর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান, জেলা কমিটির অন্যতম নেতা মনোয়ারা সিদ্দিকী ছবি, বিথিকা বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস, সবর বিশ্বাস, সাহাবুদ্দিন বাটুলসহ স্থানীয় কৃষক নেতৃবৃন্দ।
