বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রাবনী সুর কর্মজীবনের শুরু থেকে অনিয়ম,দূর্নীতিসহ নিজে লাভবান হওয়ার পরও নানা অপকৌশলের মাধ্যমে অবসরে যাচ্ছেন। তার অবসরে যাওয়ায় ইতিপূর্বে অত্র বিদ্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্তসহ বিভিন্ন কৌশল নিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন ও আত্মসাতের ঘটনার কি হবে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক,কর্মচারী ও শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে।
অবসরে যাওয়ার পূর্বে তার বিরুদ্ধে যে বিস্তর অভিযোগ জমা রয়েছে তা সূরাহা এখন অনিশ্চিত। অভিযোগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। তার অবসরে যাওয়ায় খবর এখন আলোচনার বিষয় বস্তুু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র বলেছেন, ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল শ্রাবনী সুর যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (সাবেক নৈশ বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এ পদে দায়িত্ব নেয়ারপর থেকে স্কুলের বিভিন্ন খাত হতে অর্থ আত্মসাত করায় স্কুলের অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা (তদন্ত কমিটি)’র মাধ্যমে তার দূর্নীতি ধরা পড়ে।
তাছাড়া, বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ওই বিদ্যালয় থেকে পোশাক ফ্রি সরবরাহ করা হলেও পোশাক তৈরীর জন্য কাপড় কেনা পোশাক তৈরীর দায়িত্ব তিনি পালন করে। বিগত ২০১৪ সালের ১ মার্চ শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরী খরচ বাবদ ব্যাংক হতে ৪১,৬০০টাকা, ওই বছরের ৩০ জুন ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
এর পরের বছর ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল ৩৫,৮৮০ টাকা, পরের বছর ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারী ২১ হাজার টাকা তিনি ব্যাংক হতে পোশাক তৈরী খরচ দেখিয়ে তুলেন নেন। বিভিন্ন সূত্রে আরো পাওয়া যায়, ওই সময় শিক্ষার্থীদের পোশাকের কাপড়ের মূল্য অতিরিক্ত দেখিয়ে ৩ দফায় ১১,৩৮৫ টাকা এবং অতিরিক্ত মুজুরী দেখিয়ে আরো ১৯ হাজার ৫শ’ টাকার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিকট হতে সম্পূর্ন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে মজুরী বাবদ আরো ২৯,৮২০ টাকা আদায় করেন তিনি। ২০১৪ সালে থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্তত পোশাক খাতে ৬০,৭০৫ টাকা ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাত করেন।
প্রধান শিক্ষক শ্রাবনী সুর ২০১৪ সালে হতে শিক্ষার্থীদের কম বেতনে অতিরিক্ত শ্রেনী পাঠদান করা হয়। সে সময় অতিরিক্ত পাঠদানের ১০% বিদ্যালয়রে সহায়ক কর্মচারী,পানি, বিদ্যুৎ খরচ বাবদ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ডে জমা দেয়ার বিধান থাকলেও বিগত ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি আদায়কৃত অর্থের ১০% অর্থাৎ ১,৮৪,৮৫০ টাকার ১০% অর্থাৎ ১৮,৪৮৫ টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাত করার খবর ফাঁস হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক স্তরের স্কুল হওয়া সত্বেও ভূলক্রমে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় তালিকাভূক্ত হয়। সে সময় সঠিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয় মাধ্যমিক স্তুরের স্কুলের যাবতীয় সুবিধা নেয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য দূর্নীতি দমন কমিশনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দুদকের তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া সত্বেও উক্ত শ্রাবনী সুর দূর্নীতি দমন কমিশনের সেই সময়ের কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ার কথা বলে স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের কাছ থেকে সেই সময় ৪০ হাজার টাকা এবং স্কুলের তহবিল হতে বিগত ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেন।
অপরদিকে,তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় শুন্য পদে একজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে মর্মে সেই সময় খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক কাগজে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বপ্না রানী বিশ্বাস নামে এক নারী শিক্ষককে উক্ত পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ লাভ করলেও প্রধান শিক্ষক এমপিও ভূক্তির জন্য স্বপ্না রানী বিশ্বাসের কাছ থেকে সাড়ে ৩লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। বিগত ২০১১ সালের ১ মার্চ এবং ওই বছরের ১০ এপ্রিল তার কাছ থেকে ২লাখ ১৭ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন।
শিক্ষক বিধি মোতাবেক নিয়োগ পেলেও অর্থলোভী প্রধান শিক্ষক শ্রাবনী সুর সম্পূর্ন কৌশল অবলম্বন করে ওই টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্বপ্না রানী বিশ্বাসকে এমপিও ভূক্ত করার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় প্রধান শিক্ষককে বললে তিনি আরো টাকা দাবি করে বলেন, চাহিদা মোতাবেক টাকা দিলে এমপিও ভূক্ত করার জন্য যোগাযোগ করবেন তিনি।
শিক্ষক স্বপ্্্না রানী বিশ্বাস তার চাহিদা মোতাবেক আরো টাকা দেয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানিয়ে পূর্বের দেয়া ২লাখ ১৭ হাজার টাকা ফেরত চান। প্রধান শিক্ষক শ্রাবনী সুর স্বপ্না রানী বিশ্বাসের কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার কথা বললেও আজ পর্যন্ত দেননি। তিনি ২০১২ সালের জুন হতে ২০১৭ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত স্কুলে দৈনন্দিন খরচের ভূয়া হিসাব দেখিয়ে ৩ লাখ ৫ হাজার ৯৫৫ টাকা আত্নসাত করেন।
যে খবর স্কুলের আভ্যন্তরিন নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রমানীত হয়েছে। উক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ড হতে কৌশল অবলম্বন করে বিশ্বাস ভঙ্গসহ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ৬লাখ ৫২ হাজার,১৪৫ টাকা আত্মসাত করে বলে সন্ধ্যান পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক যশোর শহরে বেজপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ৪ জন স্বাক্ষীর নাম উল্লেখ করে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত যশোরে সিআর মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলা আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য দূদক যশোরকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। উক্ত তদন্ত রিপোর্ট পক্ষে নিতে প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছেন। উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির ফিরিস্তি টানলে শেষ হবার নয়। তার অপকর্মের তদন্ত সেই সময় প্রমাণিত হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি সেই সময় উচ্চ আদালতের স্মরনাপন্ন হয়ে তার বিরুদ্ধে সকল দূর্নীতিকর্মকান্ড ধাপা চাপা দিয়ে পুনরায় প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ করান বলে সূত্রগুলো দাবি করেছেন।
প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাজে ধর্মীয় অসন্তোষ সৃষ্টিসহ বহু অপর্কম ঘটিয়েছেন যা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গেলে জানা যাবে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শ্রাবনী সুরের সাথে যোগাযোগ করতে বিদ্যালয় গত মঙ্গলবার গেলেও তার দেখা পাওয়া যায়নি। এ জন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
