বাংলার ভোর প্রতিবেদক
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার পূজামণ্ডপে আলোকসজ্জা সীমিত পরিসরে রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
শনিবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারি সহায়তাও বাড়ানো হয়েছে। অতীতে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে রাতের শেষভাগে কোনো বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পূজা উদযাপন কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করতে হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে বিশেষ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের সব বৈধ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থেকে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পূজামণ্ডপ ও আশপাশে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করে তা সীমিত পরিসরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বছর যশোরে গত বছরের তুলনায় ২৮টি বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর জেলার ৭০৯টি মণ্ডপে পূজা হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৭টিতে।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, বাড়তি মণ্ডপের কারণে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায়ও প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন। প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে জিলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তাসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
