বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভায় তেইশ বছর জামায়াতের কর্মী দাবি করে আনসার আলী নামে এক ব্যক্তি ভোট চাইলেন ধানের শীষে। যশোর সদরের নরেন্দ্রপুরে যশোর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান।
রোববার হওয়া পথসভার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। তবে জামায়াতের নেতাদের দাবি, আনসার সুবিধাবাদী, তিনি কখনো জামায়াতের কর্মী ছিলেন না।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আনসার আলীকে বলতে শোনা যায়, জামায়াত করায় আটটি মামলা হয়েছে তার নামে। জেলে থেকেছেন ছয়মাস। জেলখানাতেই অমিতের সাথে তার পরিচয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার খোঁজ না নিলেও অমিত তার খোঁজ নিয়েছে সবসময়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলাম ধর্মের কথা শুনিয়ে প্রতারণা করছে ভোটারদের সাথে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, যেখানে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রতীমা ভেঙ্গেছেন সেখানে জামায়াত নেতারা পাহারা দিয়েছেন। প্রতীমা পাহারা দেয়াটা তাদের উদ্দেশ্য ছিলোনা, শুধুমাত্র ভোটের নেশায় তারা এসব করেছে।
এসময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বেহশত ও দোযখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তার মালিকানা কোন বান্দার হাতে নাই। যে বেহেশত ও দোযখের টিকিট দিতে চায় সে নিপাট একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। যারা মুনাফেকি করবেন। যারা রাতকে দিন ও দিনকে রাত করবেন তাদের কথায় মানুষ এখন আর বিভ্রান্ত হবে না। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে যশোরকে স্বপ্নের যশোর হিসাবে গড়ে তুলবেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আনসার আলী সুবিধাবাদী লোক। তার এক ভাইপো আমাদের কর্মী। কিন্তু সে কখনো জামায়াত করেনি।
কখনো আমাদের প্রোগ্রাম কিংবা কর্মীসভায় দেখিনি। তিনি বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাজুর লোক ছিলেন।’ আর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল সালাম বিশ্বাস বলেন, ‘আনসার আলী পাঁচ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
বিএনপির প্রোগ্রামে এসেছে তার আদর্শিক ও মনের টানে। অমিতের রাজনীতির শিষ্ঠাচার দেখে তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। জামায়াত নেতারা তাদের কর্মী হিসাবে অস্বীকার করছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে; এই জন্য তারা স্বীকার করছে না। তিনি এলাকায় জামাতের নেতা ও তার পরিবারের অনেক সদস্যও জামায়াত করে।’

