সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরার তালায় নিলা খাতুন নামে এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে মারধর, উত্ত্যক্ত ও হুমকির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এর পরই নিজ বাড়িতে নিলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যার আগে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামের নিজ বাড়ির একটি কক্ষে নিলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় নিলা বাড়িতে একাই ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। থানায় অভিযোগের পরও ব্যবস্থা হয়নি, দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশি রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২) কলেজে যাতায়াতের পথে নিলাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিলার বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের ভাষ্য, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনার জেরে নিলার বাবা লিটন শেখকে ধরে নিয়ে আমজেত শেখের বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় নিলার বাবা ছাড়াও নিলা ও তার মা দেলোয়ারা বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানিও করা হয়।
লিটন শেখের দাবি, ওই ঘটনার দিনই তিনি তালা থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হুমকি অব্যাহত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরো দাবি করেন পুলিশ সে সময় ব্যবস্থা নিলে তার মেয়ের এ পরিণতি হতো না।
নিলার মামা সাদ্দাম হোসেনও ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, ঝুলন্ত অবস্থায় নিলার পা মাটিতে ছিল এবং গলায় রশির দাগও স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। এছাড়া নিলার মোবাইল ফোনও ঘরে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। ফোনে কল করলে রিং হলেও কেউ ধরছেন না বলেও দাবি করেন সাদ্দাম।
তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকী ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম বলেন, নিলার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ঠিক তেমন নয়; পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল। এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত বলেন, নিরাপত্তা ও আইনি পদক্ষেপের জন্য পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিল। অভিযোগের পরও পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। একই সঙ্গে নিলার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল, ময়নাতদন্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
