শেখ বাদশা, বাগেরহাট
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ -শরণখোলা) আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আব্দুল আলীম এ অঞ্চলের রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী নাম।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত সততার কারণে এবারের নির্বাচনে তার প্রতি ভোটারদের আস্থা দৃঢ় রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এলাকার ভোটারদের ভাষ্য, “আলীম স্যার শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকা একজন অভিভাবক।” এসব কারণেই তারা বিশ্বাস করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।
জানা যায়, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৪ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে জামায়াতের। এরশাদের স্বৈরশাসনের পতনের পর পঞ্চম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতের মাওলানা মুফতী আবদুস সাত্তার আকন।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি থেকে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে, জামায়াত ইসলামীর অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আব্দুল লতিফ খান, ইসলামী আন্দোলনের ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রী এবং জেলা বিএনপির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন প্রার্থী রয়েছেন। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় জামায়াত আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে লড়ছে।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন। আর হিজড়া ভোটার আছেন তিনজন।
সচেতন ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে আব্দুল আলীমের সাথে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে’র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সভাপতি সোমনাথ দে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি ছিলেন। ২০১৯ সালের শেষের দিকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২২ সালে গঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটিতে তিনি ৩নং সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছিলেন।
এর আগে সোমনাথ দে জাতীয় পার্টি করতেন। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সংখ্যালঘুবিষয়ক উপদেষ্টা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনার সাথে জুলাই হত্যা মামলার আসামি সোমনাথ দে। একই সাথে তিনি ৫০ লাখ টাকা ঋণ খেলাপী মামলার আসামি।
যা নিয়ে খোদ বিএনপির মধ্যেই ক্ষোভ রয়েছে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। বহুরূপী সোমনাথকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি বিএনপির তৃণমূলের নেতারা। যে কারণে অনেক বিএনপি নেতাকর্মী তার সাথে পাছে নেই। কেউ কেউ পদ পদবি ধরে রাখার জন্য সোমনাথের পিছনে ঘুরলেও তাদের ভালোবাসার প্রার্থী আব্দুল আলীম।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোমনাথ দে বিভিন্ন বক্তব্য ও মন্তব্যে উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে আব্দুল আলীম নীরবে গণসংযোগ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার এই সংযত আচরণ ও অতীতের সীমাহীন ত্যাগের কারণেই ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি আস্থার জায়গা আরও দৃঢ় হয়েছে।

