বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের বিরোধীদলীয় পাঁচ সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশের মতো যশোরেও ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি উপজেলায় অর্থবাণিজ্যের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি, মাদক কারবারে আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
গোলাম রসুল বলেন, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দের কোন মতামত নেয়া হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার বীজ মনিটরিং কমিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সামাজিক, কৃষক ও ব্যবসায়িক বিবেচনায় তিন জনকে কমিটির অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জামায়াতের পাঁচ সংসদ সদস্যের কারো মতামত গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মলনে সংসদ সদস্যরা সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোলাম রসুল কয়েকজন ডিলারের নাম উল্লেখ করে তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের হাবিবুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমানকে সার ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণাসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন অভিযোগ ও মামলার বিষয় থাকা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তিকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া মণিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেলকে ডিলারশিপ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি দাবি করেন, মাসুদ পারভেজ রুবেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। একই সঙ্গে মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সালাউদ্দীনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শুধু ডিলার নিয়োগ নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানান সংসদ সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
