মণিরামপুর সংবাদদাতা :
মণিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয় ভাটা মালিক কামরুল ইসলাম। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মাসুম বিল্লাহসহ নয় জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে মাসুম বিল্লাহ, আসিফ হোসেনসহ চার জনকে আটক করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে বাকি আসামিরা বাদীকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করছে মামলা প্রত্যাহারের জন্য। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে মামলার বাদি ও তার পরিবার।
জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের কামরুল ইসলাম ১২ অক্টোবর সকালের দিকে শ্যামকুড় ইউনিয়নের কাশিপুরে অবস্থিত তার ভাটায় শ্রমিকদের দেখভাল করছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে পূর্ব বিরোধের জের হিসেবে মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে আসিফ, তরিকুল, তৈয়বসহ এলাকার চিহ্নিত আট নয়জন সন্ত্রাসী রামদা, লোহার রড, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোটা
নিয়ে বেলা ১১টার দিকে ভাটায় হামলা চালিয়ে কামরুলকে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় শ্রমিকরা তাদের ঠেকাতে আসলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিয়ে কামরুল ইসলামের মাথা, হাত, দুইপাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে মুমুর্ষু অবস্থায় উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত কামরুল ইসলামের স্ত্রী নাসরিন সুলতানা বাদী হয়ে মাসুম বিল্লাহ, আসিফ, তরিকুল ইসলাম, তৈয়েবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, সোহানসহ নয়জনের নামে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন।পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাসুম বিল্লাহ, তরিকুর, আসিফ, তৈয়বকে আটক করে আদালতে চালান দেয়। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠান।
মামলার অন্যান্য আসামিকে পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি। মামলার বাদী অভিযোগ করেন বাকি আসামিরা তাকে চাপ প্রয়োগ করছেন মামলা প্রত্যাহারের জন্য।
প্রত্যক্ষদর্শী স্টার ব্রিকসের মালিক আব্দুল খালেক, মতিয়ার রহমান, আইয়ুব আলী ও মোজাফফার হেসেন জানান, দিনদুপুরে ভাটায় হামলা চালিয়ে কামরুলকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীরা এখনও রয়েছে ধরা-ছোয়ার বাইরে। এমনকি তারা এলাকায় বীরদর্পে ঘূরে বেড়াচ্ছে অথচ পুলিশ তাদেরকে আটক করছেনা। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, আসামিদের আটকের জন্য পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
