কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কোটচাঁদপুরের প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলী আহমদ। উপজেলার আধুনিকায়নের রূপকার, গণমানুষের প্রিয় নেতা এবং প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলী আহমদ জার্মানির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসা ময়দানে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। তাঁর বাবা ছিলেন ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কোটচাঁদপুর পৌরসভার প্রথম মুসলিম চেয়ারম্যান।
বড় ভাই গোলাম মোস্তফা সরদার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিব বাহিনীর কমান্ডার। তিনি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিলাসিতার মোহ ত্যাগ করেছিলেন তিনি।
সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে বেছে নিয়েছিলেন জনসেবা ও রাজনীতিকে। মেধা আর দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি পাল্টে দিয়েছিলেন কোটচাঁদপুরের চেহারা। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে যে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন, তা আজ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা।
রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তার হাতে গড়া ‘আদর্শ হেফজ ও এতিমখানা তথা ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ আজ উপজেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান।
শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা চর্চায় তাঁর অবদান কোটচাঁদপুরবাসী কোনোদিন ভুলবে না। জার্মানি থেকে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

