বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ পঞ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা ছিল, রেল যোগাযোগের উন্নয়নে বদলে যাবে যাতায়াত ব্যবস্থা। কিন্তু যশোর থেকে ঢাকায় সকালে যাওয়া এবং রাতে বাড়ি ফেরার উপযোগী ট্রেন না থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ অবস্থায় যশোর থেকে ঢাকাগামী প্রভাতী ট্রেনসহ ছয় দফা দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।
মঙ্গলবার যশোর কালেক্টরেট চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করেন কমিটির নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, যশোর থেকে সকালে ঢাকায় যাওয়ার এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসার জন্য ট্রেন চালু করা হলে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বেনাপোল ও দর্শনা সীমান্ত হয়ে যশোর-ঢাকা রুটে আরও আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হলে এ অঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন গতি আসবে।
‘পান্তা খেয়ে ঢাকায় যাই, রাতে বাড়ি ফিরতে চাই’ স্লোগানে ২০২৩ সাল থেকে এ দাবিতে প্রায় তিন বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে সংগ্রাম কমিটি। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের শুরু থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের চাহিদা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি, ভোরে যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি প্রভাতী ট্রেন চালু করতে হবে, যাতে মানুষ সকালে ঢাকায় পৌঁছে অফিস-আদালতসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরতি ট্রেনে বাড়ি ফিরতে পারেন।
সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ এবং কোটচাঁদপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করেন। এখানে রেলের ট্রিপ বাড়ালে বাংলাদেশ রেলওয়ে তথা সরকার আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হবে। কারণ রেল যোগাযোগ শুধু নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধবই নয়, এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও সড়কপথের চেয়ে অনেক কম। বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য তসলিমউর রহমান বলেন, তিন বছর ধরে যৌক্তিত দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা।
এই দাবিতে একাধীকবার রেল মন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আশ্বাস দিলেও কোন সমাধান পাননি তারা।
সংগ্রাম কমিটির সদস্য আমিনুর রহমান হিরু বলেন, প্রতিদিন যশোর থেকে সাত হাজার মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রভাতী রেল চালু হওয়া প্রয়োজন বেশি। সকালে ট্রেনে ঢাকায় যেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতে পারবেন তারা।
তিনি আরও জানান, এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক কাওছার আলী বলেন, তিন বছর ধরে তারা আন্দোলন করছেন একটি যৌক্তিক দাবিতে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কোন ব্যবস্থা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব দাবির পক্ষে রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি মানববন্ধন, বিক্ষোভ, রেল অবরোধ ও কালো পতাকা প্রদর্শনের মতো কর্মসূচিও পালন করেছেন তাঁরা।
ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত হয়ে যশোর-ঢাকা রুটে একটি প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনসহ নতুন তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু; সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার্থে আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন; দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডাবল রেললাইন স্থাপন; বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু; সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে রেল কনটেইনার টার্মিনাল চালু এবং রেলকে দেশের গণপরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানান, যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
