মণিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাঠি গ্রামে সরকারি সলিং রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেন নামে এক যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।
জাকির নিজেকে ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি দাবি করলেও স্থানীয় নেতারা জানান, বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, সুবলকাঠি গ্রামের খালেকের দোকানের মোড় থেকে বাজার পর্যন্ত এলজিইডির এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে রাস্তাটি সোলিং করনের কাজ করা হয়। এরপর চলতি অর্থ বছরে ওই রাস্তার বাকি কাঁচা অংশে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এইচবিবি করণের জন্য দরপত্র আহবান করে ঠিকাদার নির্বাচন করেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার কার্যাদেশ পাওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে শুক্রবার সকালে জাকির হোসেনের নেতৃত্বে সাজু, আইয়ুব ও শাহিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তার সোলিং এর ইট তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন।
এতে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জনসাধারনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি নতুন নির্মাণকাজও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অনেকে জানান, এই জাকির শুধু রাস্তার ইট নয়, এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম করেই চলেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন সাংবাদিকদের কাছে তা অস্বীকার করে বলেন, আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছে। রাস্তার ইট তোলার বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে রাস্তার ইট তুলতে দেখে জাকিরের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, নতুন করে আবার এ রাস্তায় কাজ হবে। তাই ইটগুলো তুলে অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জলিল জানান, জাকির আগে যুব জামায়াতের দায়িত্ব থাকলেও বর্তমানে সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার বিরুদ্ধে রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি, তবে এ ধরনের কাজ অত্যন্ত দুঃখজনক।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইট উত্তোলনের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

