কাজী নূর :
আমরা আর বাজেটের কি বুজমু ? আমরা বুজি কম, জিনিসপত্রের দাম কইমা গেলে ভালো। তাই দিয়া সবাই মিল্ল্যা খামুওয়ানে। জিনিসপত্রের দাম বাইড়া গেলে কি করমুওয়ানে হেইডা আমাগো চিন্তা। দ্যাশে আব্বা মারে টাকা দেতে হয়।
নওশের আলী মোল্লা। পেশায় ভ্রাম্যমাণ মাছ বিক্রেতা। যশোরের ঘোপ, নতুন উপশহর এলাকায় মাথায় ঝুড়িতে করে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুক্রবার সকালে যশোরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজারে বাংলার ভোর প্রতিবেদকের সাথে তার কথা হয়।
কথা হয় নওশের মোল্লার মতো আরেকজন আবু সাঈদ সরদারের সঙ্গে। আবু সাঈদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি পিরোজপুর থেকে এসে তার চাচাতো ভাইয়ের সাথে ৭ বছর আগে যশোরের বড় বাজারে আলু পট্টিতে লেবার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, আমরা লেবার শ্রেণীর মানুষ। আলু পেঁয়াজের বস্তা টেনে খাই। জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে থাকবে। পরিবার পরিজন নিয়ে হাসি আনন্দে বেঁচে থাকতে চাই। এই হচ্ছে সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া। এই আমাদের বাজেট ভাবনা।
প্রকৃতপক্ষে নওশের মোল্লা, আবু সাঈদ বা রায়হান উদ্দিনের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের বাজেট সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। সরকারের কাছে তাদের একটাই প্রত্যাশা সেটি হচ্ছে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেন বৃদ্ধি না পায়। অল্প রোজগারে কম দামে তারা খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে চান।
এদিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে মানভেদে কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ২০ টাকা, ডাটা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেড়স ২০ থেকে ২৫ টাকা, শষা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধুন্দল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, সবুজ শাক ৩০ টাকা, কুশি ৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, বিটরুট ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, কাকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া লাউ ও চাল কুমড়ো আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা রনি রায় বলেন, দাম কম বেচাকেনাও ভালো। ঈদের পর আজ বাজার জমেছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ৩ কেজি সাইজের রুই মাছ ৪৫০ টাকা, ৪ কেজি সাইজের কাতলা ৪৫০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ টাকা, বাটা ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ১০০০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পারশে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, বেলে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পুঁটি ৪০০ টাকা, মায়া ৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, নাইলোটিকা ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা, শিং ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, কই ২০০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, শুক্রবারের বাজার তবু বেচাকেনা ভালো না। বাজারে ক্রেতা নেই। যাও দু এক জন আসছে দাম শুনে চলে যাচ্ছে।
আজ রুই, কাতলা মাছের দাম খুব বেশি উল্লেখ করে বিরামপুর এলাকার হাসান রাজীব বলেন, ২৮০ থেকে ৩২০ টাকার মাছের দাম আজ ৪০০ টাকার উপরে। তাই মাছ না কিনে ফিরে যাচ্ছি।
ইলিশের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ৩৫০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ১০০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ১৫০০ টাকা, ১ কেজি সাইজের ইলিশ ২৮০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
ইলিশ বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ইলিশের বেচাকেনা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দাম কমলে বাজার আরো জমে উঠবে।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা ও লেয়ার ৪০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
মুরগি বিক্রেতা নুরুজ্জামান জনি বলেন, মুরগির দাম কম আছে। বিক্রি ভালো।
গরু ও খাসির মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে গরুর মাংস ৮০০ ও খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাসমতি চাল কেজি প্রতি ৭৮ থেকে ৮০ টাকা, সুপার মিনিকেট ৬০ থেকে ৬২ টাকা, মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, কাজল লতা ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, নাজির শাইল ৮৫ থেকে ৮৮ টাক, স্বর্ণা ৫২ থেকে ৫৩ টাকা, সুবর্ণলতা ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, আঠাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মোটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বিল আমন ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
চাল বিক্রেতা লোকনাথ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী অজয় কুমার সাউ বলেন, ঈদের পর আজ বাজারে বেশ ক্রেতার আগমন ঘটেছে। বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ২০৪ থেকে ২১০ টাকা, সরিষার তেল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাম তেল থেকে ১৮০ থেকে ১৮৪ টাকা, পোলাও চাল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, আটা ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, ময়দা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মসুরি ডাল ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, মুগ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোলার ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সাদা চিনি ১০৫ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১০০ থেকে টাকা ও আদা ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাল ডিম হালি প্রতি ৪০ থেকে ৪৪ টাকা, সাদা ডিম ৩৬ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭২ টাকা, হাঁসের ডিম ৫২ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
কাঠেরপুল বাবুঘাটের মুদিপণ্য বিক্রেতা বিপুল স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিপুল সাহা বলেন, ঈদের পর কয়েকদিন বেচাকেনা খারাপ ছিল। গত দু তিনদিন যাবত বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।

