চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র কর্মীদের সংঘর্ষে এক জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টার দিকে জামায়াতে ইসলামের জীবননগর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে জীবননগরে “আগুন জ্বলবে” এবং “হত্যার বদলে হত্যা” করা হবে। বিক্ষোভ চলাকালে কর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ শহরে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্ব সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা জামাতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন।
সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা রোববার বেলা ৩টায় জীবননগরের সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের পরের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনার জেরে শনিবার রাতে উপজেলার হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান (৪৫)। তিনি জীবননগর শহরে ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক এবং উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান, তার ভাতিজা মাহফুজুর রহমান, জামায়াতের কর্মী খায়রুল ইসলাম, হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিন। তারা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশের দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ারুল কবীর বলেন, ‘এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনার মামলায় তাদের আসামি করা হবে।’
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, শনিবার রাতে জামায়াত নেতার ভাতিজা মাহফুজুর রহমান হাসাদহ বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান ও তার লোকজন ১৩ ফেব্রুয়ারির ঘটনার জেরে তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান লোকজন নিয়ে হাসাদহ বাজারে গেলে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। আহত জামায়াত নেতা মফিজুর ও তার ভাই হাফিজুরকে মুমূর্ষু অবস্থায় যশোরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই ঢাকায় নেয়ার পথে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
আহতরা হলেন, বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪০), জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম (৫০), মাহফুজ (২৫), হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৩৫) ও তার বাবা জসীম উদ্দীন (৬০)।

