শরিফুল ইসলাম
কুষ্টিয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হলো ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। জেলার কুমারখালী উপজেলার ঝাউদিয়া এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘শাহী মসজিদ’ নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত দিক থেকে এটি অঞ্চলের মুসলিম ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে আসছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, মসজিদটি মুঘল আমলে নির্মিত। ধারণা করা হয়, সপ্তদশ শতকে কোনো এক স্থানীয় শাসক বা মুঘল প্রতিনিধির উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় এ অঞ্চল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ ও নদীপথ অতিক্রম করত। ফলে ধর্মীয় চর্চা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও ঝাউদিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। শাহী মসজিদ সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেরই নিদর্শন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি মুঘল রীতির প্রভাব বহন করে। পুরু দেয়াল, খিলানযুক্ত প্রবেশপথ এবং গম্বুজ কাঠামো মসজিদটিকে করেছে অনন্য। মূল কাঠামোর ওপর একাধিক গম্বুজ রয়েছে এবং কোণাগুলোতে ছোট মিনার সদৃশ অংশ চোখে পড়ে। লালচে ইট ও চুন-সুরকির সংমিশ্রণে নির্মিত এই স্থাপনাটি সময়ের বিবর্তনে কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও এখনো তার ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য অটুট রয়েছে।
মসজিদের ভেতরের মিহরাব ও দেয়ালে সূক্ষ্ম অলংকরণ কাজ লক্ষ্য করা যায়, যা সে সময়কার কারিগরি দক্ষতার পরিচয় বহন করে। প্রাচীন নকশা ও অলংকরণে ইসলামি শিল্পরীতির প্রভাব স্পষ্ট। স্থানীয়দের মতে, মসজিদটি দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকলেও পরবর্তীতে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়, ফলে বর্তমানে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই মসজিদকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরাও স্থাপনাটি দেখতে আসেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ সংরক্ষণ ও গবেষণার আরও উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হলে এটি কুষ্টিয়া জেলার অন্যতম দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থাপনায় পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয়ই নয়, বরং এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল স্মারক।

