শরিফুল ইসলাম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক জনপদ বারোবাজারে অবস্থিত প্রাচীন গলাকাটা মসজিদ আজও বহন করছে মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের স্মারক। সময়ের বিবর্তনে অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বে স্থানটি এখনও ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
স্থানীয় সূত্র ও ইতিহাসবিদদের মতে, মসজিদটি সুলতানি আমলে, আনুমানিক ১৫শ থেকে ১৬শ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত। তবে এর সুনির্দিষ্ট নির্মাতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। “গলাকাটা” নামকরণ নিয়েও রয়েছে নানা লোককথা। কেউ কেউ মনে করেন, অতীতে এখানে কোনো শাস্তি কার্যকর করার ঘটনা থেকে এমন নামের উৎপত্তি। আবার অনেকে বলেন, স্থাপত্যের বিশেষ গঠন বা কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে নামটির সম্পর্ক থাকতে পারে।
স্থাপত্যশৈলীতে মসজিদটি ছিল এক গম্বুজবিশিষ্ট। পোড়ামাটির ইট দিয়ে নির্মিত এ স্থাপনার প্রাচীর ছিল বেশ মোটা ও মজবুত। খিলানযুক্ত দরজা এবং সরল অলংকরণে নির্মিত হলেও এতে ছিল দৃঢ়তা ও সৌন্দর্যের সমন্বয়। বর্তমানে গম্বুজসহ বেশ কিছু অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও মূল কাঠামোর কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
বারোবাজার একসময় ছিল প্রাচীন জনপদ ও বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানে একাধিক প্রাচীন মসজিদ ও স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, যা এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষ্য বহন করে। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এলাকাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ ও নিয়মিত সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে গলাকাটা মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

