বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর শহরে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও সচেতনতা বাড়াতে “বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যবসায়ীদের করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইণ্ডাস্ট্রির উদ্যোগে চেম্বারের নিজস্ব কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে, রিকসা ইজিবাইক মালিক সমিতির দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শহরে বিদ্যুতের সিংহভাগ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে রিকসা ও ইজিবাইক চার্জিংয়ে। অনেকে অবৈধভাবে গ্যারেজ করে রিকসা ইজিবাইকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে ২ থেকে ৫টা ইজিবাইক রিকসা বাসা বাড়িতে চার্জ করে রাস্তায় ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন।
যশোর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভায় বৈধ ইজিবাইকের সংখ্যা প্রায় ৪,৫০০টি। পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ রিকশার সংখ্যা প্রায় ২,৯৭৩টি। মটরচালিত রিকসা সম্পূর্ণ অবৈধ।
সূত্র বলছে, শহরে মটর চালিত রিকসা ইজিবাইকের সংখ্যা গড়ে প্রায় ১৫ হাজার। এই ১৫ হাজার রিকসা ইজিবাইক প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুতে চার্জ করা হয়। যেখানে একটি ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, রিকশায় পাঁচটি করে ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। ১২ ভোল্টের পাঁচ ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ২ কিলোওয়াট। দিনে ৫ ব্যাটারির একটি ইজিবাইক আট ঘণ্টা চার্জ দিলে ১৪ থেকে ১৫ ইউনিট বিদ্যুত খরচ হয়। সেই হিসাবে ১৫ হাজার যানবাহনে দিনে বিদ্যুত ব্যবহৃত হচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ইউনিট। অথচ যশোর শহরে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন বলেন, রিকসা ইজিবাইক চর্জের জন্য সরকার র্নিধারিত আলাদা ট্যারিফ রয়েছে। যশোর শহরে বর্তমনে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে।
এদিকে, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইণ্ডাস্ট্রি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। যশোরের ছোট বড় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে। এ পরিস্থিতিতে ঈদের পর থেকে শপিংমল ও পোশাকের দোকানসহ সব ধরনের দোকান রাত ৮টার পর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বর্তমানে টাইলস, পাইব, আরএন রোডের মোটর পার্সস, পুস্তকের দোকান বিকেল ৫ টার পর বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া শহরে লাইটিং করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে করা লাইটিং খুলে ফেলতে বলা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ডাক্তারের লাইটিং করা সাইনবোর্ডের আলো বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়া জরুরি। তাই ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় যশোর চেম্বারের সাধারণ সম্পাদক তানভিরুল ইসলাম সোহান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। বিনা প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়, তাহলে বিদ্যুতের অপচয় কমবে এবং ব্যয়ও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা কমিয়ে আনতে হবে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত দিক থেকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নেন, ঈদুল ফিতর পর্যন্ত শপিংমল ও কাপড়ের দোকানগুলো স্বাভাবিক সময় পর্যন্ত খোলা রাখা হলেও অন্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। তবে ঈদের পর থেকে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যেই বন্ধ রাখার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছান তারা।
মতবিনিময় সভায় যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইণ্ডাস্ট্রির সহসভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সুজার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব, ওজোপাডিকোর যশোর পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, চেম্বারের সহসভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপুসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই উদ্যোগ সফল করতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। সবাই নিয়ম মেনে চললে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে এবং শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।

