হিমেল খান :
যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। কিন্তু ডেঙ্গুর আক্রান্তদের জন্য নেই পর্যাপ্ত আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা। ফলে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই একই ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। নিয়ম অনুযায়ী মশারির মধ্যে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ভিন্ন। এতে ডেঙ্গু সংক্রমাণের ঝুঁকিতে পড়ছেন অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনেরা। পাশাপাশি শয্যা সংকটের কারণে কোথাও মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়ির গা ঘেসেও চলছে চিকিৎসা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ মাসে যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ২৫৪ জন। মারা গেছেন তিনজন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন অভয়নগর উপজেলায়।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। কিন্তু রোগীর তুলনায় শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রন্তদের পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদেরও। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তদের একই ওয়ার্ডে রাখায় তারা বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ ও স্যালাইন না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের ওহেদ আলী জানান, তিন দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারপাশেই ভর্তি রেয়েছে ঝিকোরগাছা উপজেলার বাসিন্দা শাহিন। তিনি জানান, তিনি ২ দিন আগে অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
তবে হাসপাতালে ডেঙ্গু ও সাধারন রোগীর জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা না থাকাই পাশাপাশিই থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাকে। রহিমা বেগম নামে আরেক রোগীর স্বজন জানান, ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশিই চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের ভিতর আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানোর দাবি করছেন।
তবে রোগীর বাড়তি চাপ ও শয্যা সংকটের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হাসপাতালের সুপার হুসাইন শওকত। পাশাপাশি একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগী চিকিৎসার বিষয়ে তিনি জানান, শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে,জেলা সিভিল সার্জন মাসুদ রানা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। জলাবদ্ধতা, থেমে থেমে বৃষ্টি ও অসচেতনতার কারণে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট্যরা। এ অবস্থায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
