বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামাপূজা বা কালীপূজা আগামীকাল রোববার (৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতিবছর এ পূজা উদ্যাপিত হয়। এ উপলক্ষে যশোর শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
যশোর শহরের বেজপাড়া, নিউ বেজপাড়া, মেঠোপাড়া, সুধীরবাবুর কাঠগোলা, শ্রীধর পুকুরপাড়, নীলগঞ্জ, বিরামপুর ও টিপি ক্লিনিক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় শ্যামাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার কেশবপুর, ঝিকরগাছা, অভয়নগর, মনিরামপুর, চৌগাছা, বাঘারপাড়া ও শার্শাসহ অন্যান্য উপজেলাতেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে শ্যামাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়বে বিভিন্ন এলাকায়।
হিন্দু পুরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তিরূপ। সংস্কৃত ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালীপূজা মূলত শক্তির আরাধনা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের প্রত্যাশায় ভক্তরা দেবী কালীর পূজা করেন। কালী দেবী ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুণ্ডী, ভদ্রকালী ও দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।
শ্যামাপূজার দিন সন্ধ্যায় বাড়ি ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রয়াত পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনদের স্মরণ করা হয়। এ আয়োজন দীপাবলি নামে পরিচিত। এদিন ঘরে ঘরে আলোকসজ্জা ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
দুর্গাপূজার মতো শ্যামাপূজাতেও মন্দির, মণ্ডপ ও গৃহে মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। পাশাপাশি মন্দির বা বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত পাথর কিংবা ধাতব প্রতিমাতেও পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, অনেক স্থানে মধ্যরাতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেবীর আরাধনা করা হয়। গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত প্রচলিত ব্রাহ্মণ্য রীতিতে আদ্যাশক্তি কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় শ্মশানেও বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্মশানকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
শুভশক্তির বিজয়, অশুভের বিনাশ এবং বিশ্বশান্তি কামনায় ভক্তরা দেবী শ্যামার কাছে প্রার্থনা করবেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে যশোরের শহর ও গ্রামাঞ্চলে শ্যামাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।
