অভয়নগর সংবাদদাতা
যশোরের অভয়নগরে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বাজারের কাঠপট্টির প্রায় ৩৫টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে নওয়াপাড়া পীরবাড়িসংলগ্ন কাঠপট্টি এলাকার দোকানে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের নওয়াপাড়া স্টেশন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নওয়াপাড়া ও ফুলতলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো বাজার এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগও সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ততক্ষণে আগুনে কাঠপট্টির রমজান ফার্নিচার নামের দুইটি দোকান, হাতিম ফার্নিচারের শো-রুম, আব্দুর রউফ ফার্নিচার নামের দুইটি দোকান, রনি ফার্নিচার, বিকু মোল্যার কাঠের দোকান, বাদল টি স্টোর, রুবেল ফার্নিচার, শরিফুল কুটির শিল্প, ইমরান দরজা ঘর ও নারায়ণ চন্দ্র কুটির শিল্পের কারখানা পুড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা পাশের একটি ফানুস তৈরির কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ব্যবসায়ীরা জানান, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোতে বিপুল কাঠ ও দামী আসবাবপত্র মজুত ছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
বাদল টি স্টলের মালিক বাদল মল্লিক বলেন, ‘নগদ টাকা, টিভি, ফ্রিজসহ দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার দুই লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে।’ রমজান ফার্নিচারের মালিক রমজান আলী বলেন, ‘আমার দুইটি দোকানের ফার্নিচার পুড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দিপু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

