বাংলার ভোর প্রতিবিদক :
জাতীয় পার্টির যশোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ২৫ জন নেতা দল থেকে সেচ্চায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার রাত ৯ টায় প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং দেশের কল্যাণে জনগণের সেবা করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে দলের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অভাব, নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অসাংগঠনিক ও সেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডে তারাহতাশ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টি দেশ ও জনগণের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম হবে না বলে তারা মনে করছেন। এ কারণে তারা সেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ বরেণ, ভবিষ্যতে তারা নতুন কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সময়, পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার উপর নির্ভর করে তারা পদক্ষে নেবেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন যশোর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ আজিজুর রহমান আজিজ, সদস্য সচিব ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল, এম এ হালিম ও জিএম হাসান। এছাড়া কেশবপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ডা. আক্তারুজ্জামান আক্তার, শার্শা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিয়ার রহমান, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিবসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
অন্যান্য পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল আমিন লাভলু, ইমন হোসেন লাল্টু, আমিনুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, বজলুর রহমান, ডা. জামাল উদ্দিন, মফিজুর রহমান, একরামুল হক জুয়েল, আবু হারেজ, ওসমান গণি সরকার, সেকেন্দার আলী ও মাস্টার ফিরোজ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনৈতির সং্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতায় দলের কার্যক্রম নিয়ে তাদের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দলীয় পদ ও সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী ২৫ জন নেতাই উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলার শীর্ষ নেতাদের একযোগে পদত্যাগ জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

