বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সারাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চলমান উদ্বেগের মাঝে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বর্তমানে দেশে তেলের চাহিদা বাড়লেও সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং আপৎকালীন সময়ের জন্য ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৫৩ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্তত ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। তেলের দাম বাড়লে খাবার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে-যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হবে। তাই চারদিক থেকে চাপ থাকলেও জনগণের স্বার্থে সরকার প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তিনি একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান বাংলাদেশসহ মাত্র ৫টি দেশকে তাদের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য। দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা পৃথিবীর সকল প্রান্তে পৌঁছে যাবো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জেলার ১৫৩ জন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে মোট ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার এককালীন অনুদানের চেক তুলে দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নানামুখি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিত্তবানদেরও এসব মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পরিচালিত এসব সহায়তা দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

