বাগআঁচড়া সংবাদদাতা
যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা বাজারে কামাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে মারধর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর এবং নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার রাতে ও পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মোট দুই দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হজরত আলী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “তাদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।’
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিবেশী হজরত আলীর সঙ্গে পূর্ব থেকেই কৃষি জমিতে সেচ (পানি দেয়া) নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে হজরত আলী তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ৪০০ মণ রড ও ৩ হাজার বস্তা সিমেন্ট বাকিতে দাবি করেন।
তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে চলে আসলে বিকেলে হজরত আলীর সহযোগীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেয়।
পরে সন্ধ্যায় দোকানে চা পান করার সময় হজরত আলীসহ তার ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার দোকানে হামলা চালায়। আমাকে না পেয়ে তারা আমার বৃদ্ধ পিতা ও ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে।
এতে তার পিতা মোমরেজ আলী গুরুতর আহত হন। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে দোকানে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এছাড়াও হজরত আলী পূর্বে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অন্তত ৬টি মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বলে দাবি করেন ভিকটিম কামাল হোসেনে।
অভিযুক্ত হজরত আলী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কামাল হোসেন অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে সহযোগিতা করেছে। ওই মামলায় আমার প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা চাইতে গিয়ে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোন ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেননি, যদি অভিযোগ করেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

