বাংলার ভোর প্রতিবেদক
গ্রীস্মের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো যশোরের বাজারেও দেখা মিলেছে জনপ্রিয় মৌসুমি ফল লিচুর। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই লিচু ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে এবং প্রতি শ’ লিচু ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি।
শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা ঝুড়ি ও ডালায় করে লিচু সাজিয়ে বিক্রি করছেন। লালচে রঙের টাটকা লিচু ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে সহজেই। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে রসালো ও মিষ্টি স্বাদের কারণে লিচুর চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। ফলে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও অনেকে কিনছেন পরিবারের জন্য।
বিক্রেতারা জানান, মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি থাকে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লিচুর উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে এবং দাম কিছুটা কমে আসবে। স্থানীয় এক বিক্রেতা বলেন, “এখনো পুরোপুরি মৌসুম শুরু হয়নি। যেগুলো বাজারে এসেছে সেগুলো আগাম ফলন। তাই দাম একটু বেশি। সামনে আরও বেশি লিচু আসলে দাম কমে যাবে।”
অন্যদিকে, ক্রেতাদের কেউ কেউ দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রতি শত লিচু ৩০০ টাকা অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা কষ্টকর। এক ক্রেতা বলেন, “বাচ্চাদের জন্য কিনতে হয়, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় বেশি নেয়া যাচ্ছে না। আশা করছি সামনে দাম কমবে।”
যশোর অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের লিচু উৎপাদন হয়, যার মধ্যে দেশি লিচুর পাশাপাশি বোম্বাই, চায়না-৩সহ উন্নত জাতের লিচুও উৎপাদন হয়ে তাকে। তবে বর্তমানে বাজারে প্রথম দেশি লিচুর আগমন। যশোর উৎপাদতি লচিু দশেরে বভিন্নি স্থানে সরবরাহও হচ্ছে বলে জানাযায়। এসব লিচুর স্বাদ ভালো হলেও আকারে তুলনামূলক ছোট।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লিচুর উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে লিচু কিনতে পারবেন। তবে অতিবৃষ্টি বা ঝড় হলে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, যশোরের বাজারে লিচুর আগমন গ্রীস্মের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে লিচুর দাম কতটা সহনীয় পর্যায়ে আসে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে কিনা।

