বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষাসফরে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ইএসটি) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাসফরকে কেন্দ্র করে ওঠা এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিলে বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটি জরুরি বৈঠক করে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বিভাগের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত প্রভাষককে আপাতত ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা কার্যক্রমসহ বিভাগের সকল অ্যাকাডেমিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা সফরের দায়িত্বও তাকে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধবিষয়ক ‘কমপ্লেইন্ট কমিটি’কে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ তাদের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধবিষয়ক কমপ্লেইন্ট কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার বলেন, “আমরা বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পেয়েছি। আগামী দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসবো। এরপর নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, বিভাগের পক্ষ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল বিভাগের শিক্ষাসফরে অংশ নেয়া এক ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উত্থাপন করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং শিক্ষার্থীদের আলোচনায় প্রকাশ্যে এলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়া হয়।

