বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের আরবপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ‘ডিলাইট সরদার প্যালেস’ নামের ১৩ তলা ভবনের বিভিন্ন ঠিকাদার তাদের সম্পাদিত কাজের বিপরীতে প্রায় ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ২৮৩ টাকা বকেয়া পাওনা পরিশোধ না হওয়ার অভিযোগ এনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরদার স্টেটের স্বত্বাধিকারী মরহুম আব্দুস সালাম সরদার (হবি) নিজস্ব জমিতে ‘ডিলাইট সরদার প্যালেস’ নামে একটি ১৩ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। নির্মাণকাজ চলাকালীন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভজাত দুই ছেলে কামাল হোসেন ও সায়াদ হোসাইন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন এবং সরদার স্টেটের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা নির্মাণাধীন ভবনের সকল ঠিকাদারকে ডেকে প্রথমে সাময়িক এবং পরে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি স্থায়ীভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
ঠিকাদারদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া কাজের বিল প্রস্তুত করে সরদার স্টেটের ম্যানেজার ফরিদ হোসেন ও জামির হোসেনের কাছে জমা দেয়া হলেও তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। বরং বিলের টাকা চাইতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ আচরণ করেন এবং অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
ঠিকাদারদের ভাষ্যমতে, ভবনটির নির্মাণকাজে বিভিন্ন ঠিকাদারের অধীনে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন মজুরি না পাওয়ায় এসব শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, গত ১০ জানুয়ারি পাওনা বিলের বিষয়ে কথা বলতে গেলে সায়াদ হোসাইন ও তার শ্বশুর জিয়াউল হক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। এ ঘটনায় তারা যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার নম্বর- ১৫৬৪, তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, জিডি করার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি এবং তাদের পাওনা অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। তাই তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

