বেনাপোল সংবাদদাতা :
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
রোববার রাত ৯টার সময় ভারত-বাংলাদেশ “দুই দেশের মোহনা” বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদেরকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারত-বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ, সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থা ও দপ্তরের কর্মকর্তা।
ভারতের প্রশাসনিক ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক এসব বাংলাদেশি নাগরিককে সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সের একটি বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল। নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের প্রত্যাবাসনের নির্দেশ জারি করা হয়।
গত ৩ জুলাই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষ পুলিশ ভ্যানে করে তাদের তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশনে নেয়া হয়। সেখান থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়। পরে পেট্রাপোল সীমান্তে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের পর দুই দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালিকা অনুযায়ী প্রত্যাবাসন হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত তারা বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছানোর পর তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেখা যায়।
প্রাপ্ত তালিকায় দেখা যায়, প্রত্যাবাসন হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। প্রত্যেকের নামে পৃথক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর বাংলাদেশি সংস্থাগুলো তাদের পরিচয় ও ঠিকানা পুনরায় যাচাই করছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হবে। পরে, স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা তাদেরকে গ্রহণ করবে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য।
এনজিও সংস্থা যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে ফেরত আসারা বিভিন্ন সময়ে দালালের প্রলোভনে পড়ে ভালো কাজের আশায় ভারতে গিয়েছিল।
সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়। তারা দুই থেকে ৫ বছর সাজাভোগ শেষে ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরেছে। ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংস্থা যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ২৫ জন ও রাইটস যশোর ২৫ জনকে গ্রহণ করবেন নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

