বাংলার ভোর প্রতিবেদক
একাত্তর এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তিরা চায়না সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকুক। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমীর দিনে সকাল থেকে যশোরে মন্দিরে মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সমাজে কোন প্রকার অস্থিরতা কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, মসজিদ-মন্দিরকে সবসময় রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। ধর্মকে পুঁজি করে কেউ যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ রেখা টানতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে পিতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের হাতে গড়া আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা কালিতলা আদিবাসী মন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়। মন্দিরে প্রবেশ করতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উলুধ্বনি এবং ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে কাউকে দুর্বল কিংবা সবল ভাবার সুযোগ নেই। এই যশোরের মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনার (সনাতন ধর্মাবলম্বী) সন্তানেরও ঠিক সমঅধিকার রয়েছে। কে হিন্দু আর কে মুসলিম কিংবা কে সমতলে আর কে পাহাড়ে বসবাস করে এটি বিবেচ্য বিষয় নয়।
বিএনপি কোন দিন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টানের মধ্যে বিভক্তিতে বিশ্বাস করে না। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদ জিয়া আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছেন। পিতা মাতার সেই শিক্ষা অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈষম্যহীনভাবে মসজিদ-মন্দির কিংবা কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন করছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেই নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করছেন। নতুন বাংলাদেশে কোন মাদক কারবারি কিংবা সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। মাদক কারবারি কিংবা সন্ত্রাসীর কোন রাজনৈতিক কিংবা পারিবারিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যে কোন মূল্যে তাদেরকে নির্মূল করাই বর্তমান সরকারে লক্ষ্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী আজম, সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার সদস্য সচিব নির্মল কুমার বিট, আদিবাসী মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক বরুণ কর্মকার প্রমুখ। পরে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে গিয়ে শারদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী সদরের চুড়ামনকাটি দাশপাড়া, কাশিমপুরের বিজয়নগর কুন্ডুপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নওয়াপাড়ার বাহাদুরপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে গিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
