বাংলার ভোর প্রতিবেদক
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও যশোরের গণহত্যার শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি, মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও। এমন অভিযোগ ও ক্ষোভ বুকে নিয়ে দিনব্যাপি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে যশোর গণহত্যা দিবস। শনিবার সকালে শংকরপুর বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং বিকেলে টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে স্মরণসভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

সকালে শংকরপুর বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
গণহত্যা দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক হারুণ-অর রশিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হয় এবং এই টাউন হল মাঠেই প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অথচ এখনও শহীদদের কোনো নির্ভরযোগ্য তালিকা সরকারের কাছে নেই।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের খোঁজ-খবর নেয়ার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তাই জনগণকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আকাক্সক্ষা অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, দেশ জ্বালানিসহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে স্বাধীনতার পক্ষে কোনো অর্জন টেকসই হবে না।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য সচিব আবদুল মালেক, আফজাল হোসেন দোদুল, মশিউর রহমান এবং শহীদ সন্তান হাছিনুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এই গণহত্যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা সরকারের প্রতি এ গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান।

এ সময় শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে যশোরের গণহত্যায় নিহতদের দ্রুত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং জেলার বিভিন্ন গণকবর সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানানো হয়।

Share.
Exit mobile version