বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে অবৈধভাবে ১৮টি দোকান গড়ে ওঠায় কৃষিপণ্য কেনাবেচায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাজারে জায়গা সংকটে কৃষকরা পণ্য নিয়ে বসতে পারছেন না। অন্যদিকে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক ব্যাপারি বাজার ছেড়ে সাতমাইলসহ আশপাশের হাটে চলে যাচ্ছেন। ফলে বিক্রি করতে না পেরে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে চাষিদের। এতে কাঁচা সবজি নষ্ট হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বাজারে গিয়ে স্থানীয় কৃষক, আড়তদার, শ্রমিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, বাজারের একটি বড় অংশ অবৈধ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় দখল হয়ে যাওয়ায় পণ্য ওঠানামা ও কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কাদা-মাটি ও পার্কিং সংকট। জায়গা না পেয়ে ব্যাপারিরা অন্য বাজারে চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
এদিকে চৌগাছা কাঁচাবাজার আড়তদার ব্যবসায়িক সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১৮টি দোকান নির্মাণের জন্য প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮টি দোকান থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, “আমরা কোনো টাকা-পয়সা লেনদেন করিনি। তবে জায়গার অভাবে বাজারে ট্রাক ঢুকতে পারছে না এটা সত্যি।”
বাজারে আসা কৃষকেরা জানান, উৎপাদন খরচ, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে পণ্য নিয়ে এসে বিক্রির জায়গা না পাওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। ক্রেতা বা ব্যাপারি না পাওয়ায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পণ্য বাড়িতে ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে কাঁচা সবজি।
চৌগাছা কাঁচাবাজারের চাষি আজিজুর রহমান বলেন, “কষ্ট করে ক্ষেতের সবজি তুলে হাটে নিয়ে এসে দেখি বসার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। বাজারের মধ্যে কয়েকটি দোকান তৈরি হওয়ায় পুরো বাজার জ্যাম হয়ে থাকে। সারা দিন বসে থেকেও সবজি বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে।”
কাবিলপুরের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এনজিওর ঋণ ও নিজের জমানো টাকা দিয়ে পটল-বেগুন চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে জায়গা না থাকায় এবং ব্যাপারি না আসায় মাল বিক্রি করতে পারছি না। এভাবে চললে পরিবার নিয়ে চরম বিপদে পড়তে হবে।”
আড়তদার কাজী আশরাফ আলী বলেন, জায়গা ও গাড়ি রাখার সুবিধা না থাকায় অনেক ব্যাপারি সাতমাইলে চলে গেছেন। ফলে চৌগাছা বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু পণ্য করিমনে করে সাতমাইলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরেক আড়তদার পলাশ হোসেন বলেন, গাড়ি রাখার জায়গার সংকট ও কাঁদা-মাটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে কৃষক ও ব্যাপারি উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজারে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য পড়ে থাকলেও ব্যাপারি না থাকায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, “১৪৩৩ বঙ্গাব্দে পৌরসভার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমি হাটটির ইজারা পাই। ইজারার শর্ত অনুযায়ী জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। কিন্তু যশোর জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৮টি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে ইজারাকৃত জায়গায় অবৈধভাবে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
এসব স্থাপনার কারণে বাজারের স্বাভাবিক কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে। আশপাশের চার-পাঁচটি এলাকার কৃষকেরা পণ্য নিয়ে এসে বিক্রি করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
চৌগাছা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখছি।”
