বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর জুয়েল হত্যা মামলায় প্রধান আসামি চাচা আব্দুল মান্নান মান্নুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই মামলায় তার ছেলে আলম হোসেনকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ছয় আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নুর-ই আলম পান্নু।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মান্নান মান্নু ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই কারাগারে ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে আব্দুল মান্নান মান্নুর সঙ্গে তার ছোট ভাই হাকিম মোড়লের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকালে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে পুনরায় কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মান্নুর ছেলে আলমসহ উভয় পক্ষের স্বজনরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আব্দুল মান্নান মান্নু মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে তার ভাই হাকিম মোড়লকে আঘাত করেন।
মারামারি থামাতে এগিয়ে আসেন হাকিম মোড়লের বড় ছেলে জুয়েল। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন মান্নু কাঠের টুকরো দিয়ে জুয়েলের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আলম হোসেনসহ কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
গুরুতর আহত জুয়েলকে প্রথমে যশোরে এবং পরে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা হাকিম মোড়ল বাদী হয়ে ভাই আব্দুল মান্নান মান্নু, ভাতিজা আলম হোসেনসহ আটজনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুমন বিশ্বাস আট আসামির বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আব্দুল মান্নান মান্নুর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে আলম হোসেনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

